প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রয়োজন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সাভার সেনানিবাসের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির চাপ নিরসনকল্পে ও সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক চাহিদার প্রেক্ষিতে এ সেনানিবাসে দ্বিতীয় ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় জিরাবো ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ।
সেনানিবাসের সুশৃঙ্খল নিয়ম ও নীতিমালা এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনায় ৯ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও সাভার অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার, সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া, পিএসসি মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দিকনির্দেশনায় ০১ জানুয়ারি ২০১০ হতে এর শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০১০ শিক্ষাবর্ষে নার্সারি হতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা কর্তৃক বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ অনুমোদনসহ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এর স্কুল কোড-১৫৬২ এবং EIIN-১৩৪১৫২। ২০১২ শিক্ষাবর্ষে নার্সারি হতে দ্বিতীয় শ্রেণি খোলার মাধ্যমে দিবা শাখা চালু করা হয় এবং বর্তমানে এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও সাভার অঞ্চলের  এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো: আকবর হোসেন, এসইউপি, এএফডব্লিউএস, পিএসসি, জি+। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে আছেন ৮১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আনিসুজজামান, বিপি, এনডিসি, পিএসসি। অধ্যক্ষ ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লে. কর্নেল মো: লুৎফর রহমান, পিএসসি, এইসি।
সেনানিবাসের সুশৃঙ্খল নিয়মনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, শ্রেণি পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সুসম্পর্ক, সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম ইত্যাদি মিলিয়ে বর্তমানে এটি একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬৩৭ জন, শিক্ষক-শিক্ষিকা ৫৭ জন, একাডেমিক কাউন্সেলর ০১ জন ও কর্মচারি ৪০ জন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর হতে অনুষ্ঠিত সকল প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসিই), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পাসের হরে শতভাগ। প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞ শিক্ষকম-লী  দ্বারা সকল পাবলিক পরীক্ষার পূর্বে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে প্রতি বছর অধিকাংশ পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে থাকে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে ২০১৬ সালের জেএসসি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠানের ৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১২ জন জেনারেল গ্রেডসহ মোট ২৯ জন বৃত্তি প্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানের গৌরব বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।
ছাত্র-ছাত্রীদের পূর্ণ মেধা বিকাশে শরীরচর্চা ও ক্রীড়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। খেলাধুলা শরীর ও মনকে সতেজ করে। উন্মুক্ত পরিবেশে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করার জন্য প্রতিষ্ঠানে রয়েছে উন্মুক্ত পরিবেশ ও বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ। শিক্ষার্থীদের ক্লাসের অবসর সময় খেলাধুলাসহ শরীরচর্চার জন্য রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, হ্যান্ডবল, বাস্কেটবল ও ব্যাডমিন্টন। এছাড়াও ইন্ডোর গেমস পরিচালনার জন্য রয়েছে দাবা, ক্যারাম ইত্যাদি খেলার সরঞ্জামাদি। প্রতিষ্ঠানে সারা বছর চারটি হাউসের মধ্যে সব ধরনের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। হাউসগুলো হলো:
ক। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হাউস (রং লাল)।
খ। ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম হাউস (রং সবুজ)।
গ। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া হাউস (রং কমলা)।
ঘ। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন হাউস (রং আকাশি)
প্রতিটি হাউসের রয়েছে নির্দিষ্ট পতাকা, হাউস টিচার ও হাউস প্রিফেক্ট।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ও এর গুণগতমান ঐ প্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। গ্রন্থাগার সভ্যতার দর্পণ বলে বিবেচিত। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণের জন্য এখানে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। প্রায় দুই সহস্রাধিক বইসহ বিভিন্ন ধরনের দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকায় সমৃদ্ধ এ পাঠাগার। একজন প্রশিক্ষিত গ্রন্থাগারিকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বিভিন্ন পুস্তক গ্রহণ ও অধ্যয়নের সুযোগ পায় এ পাঠাগারে।
পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে বরাবরই এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হয়ে থাকে। তাছাড়া প্রতি বছর এখানে বার্ষিক সাংস্কৃতিক সপ্তাহ পালন করা হয় যাতে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে হামদ-না’ত, দেশের গান, ভাটিয়ালি, আধুনিক, নজরুলগীতি ও রবীন্দ্রসঙ্গীত। ইতোমধ্যে অত্র প্রতিষ্ঠান সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও অত্যন্ত প্রশংসনীয় ফলাফল অর্জন করে সকলের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
কালের বিচারে নবীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সহশিক্ষা কার্যক্রমে ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনী তথা যাবতীয় পরিম-লে দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে; যার কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১। পরপর পাঁচবার আন্ত:ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্যায়ে সাভার এরিয়া চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
২। আন্ত:ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্কুল পর্যায়ে ২০১৫ সালে রানার আপ ও ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়।
৩। ২০১৬ সালের এনডিএফ বিডি-৯ম জাতীয় সংসদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয়ভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়।
৪। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত জারি গান প্রতিযোগিতায় ২০১৬ সালে জাতীয় রানার আপ ও ২০১৭ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
৫। অত্র প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০১৭ এ বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ঢাকা বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা  সম্পন্ন, আত্মনির্ভরশীল, সৎ, চরিত্রবান, কর্মদ্যোগী, সেবাপরায়ন, স্বাস্থ্য সচেতন সর্বোপরি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বয়েজ স্কাউট ও গার্লস গাইডের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের জাতীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, আত্মসচেতন ও পরোপকারী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানে বয়েজ স্কাউট ও গার্লস গাইড প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রোগ বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এছাড়া এখানে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন হাম, হেপাটাইটিস-বি, ভিটামিন-এ, পোলিও টিকা প্রদান ইত্যাদি পালিত হয় এবং কোনো রকম সংক্রামক রোগের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়লে সে বিষয়ের উপর সেমিনারের ব্যবস্থা করা হয়। বিজ্ঞান মানেই প্রকৃতিকে অনুধাবন করা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও গাণিতিক যুক্তি প্রয়োগের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞান প্রকৃতির রহস্যকে উন্মোচন করে যাচ্ছে। এটি একদিকে মানব জাতির অজানাকে জানার কৌতুহলকে পূরণ করে, অন্যদিকে বিজ্ঞানলব্ধ জ্ঞান প্রতিনিয়তই নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই সঠিক বিজ্ঞান শিক্ষাই একটি জাতিকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে। বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় দক্ষ ও প্রযুক্তি সচেতন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বিজ্ঞানাগার। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, জীব বিজ্ঞান, কৃষি, গার্হস্থ্য ও কম্পিউটার বিষয়ে ব্যবহারিক ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে কম্পিউটার শিক্ষার বিকল্প নেই। তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে সুসজ্জিত কম্পিউটার ল্যাব যেখানে ৪০টি অত্যাধুনিক কম্পিউটার ও মানসম্মত আসবাবপত্র রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কম্পিউটার বিষয়ে ব্যবহারিক পাঠদানের পাশাপাশি অবসরে শিক্ষকগণ কম্পিউটার ব্যবহারেরও সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সাথে দ্রুত যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য রয়েছে হাইস্পিড ইন্টারনেট সুবিধা।
এ প্রতিষ্ঠান ২০১৭ সালে ৮ম বর্ষে পদার্পণ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে এনসিটিবির পাঠ্যক্রম ও সেনাসদর শিক্ষা পরিদপ্তর নির্দেশিত সকল নিয়মনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আলোকিত মানুষ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, পরমতসহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রভূত উন্নতি সাধন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে এখানে বছরের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিতভাবে অভিভাবক দিবস অনুষ্ঠিত হয়। ফলে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানকল্পে বিভিন্ন কার্যক্রম গৃহীত হয়। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
প্রতিষ্ঠানের এসব সাফল্যের মূলে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের নিরলস প্রচেষ্টা এবং আন্তরিকতা। এভাবে কর্তৃপক্ষের সঠিক দিক-নির্দেশনা, শিক্ষকম-লীর আন্তরিকতা এবং অভিভাবকবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতায় এ প্রতিষ্ঠান একদিন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভে সক্ষম হবে